আত্মহত্যার প্রবণতা শনাক্ত করছে এআই

১ জুলাই, ২০২১ ১১:০১  
করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে কঠোর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে ৩০ শতাংশ। দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ হান নদীর উপর ২৭টি সেতুতে প্রায় ৫০০টি আত্মহত্যা প্রচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নদীর তীরে সিসিটিভি ক্যামেরায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে সিউল মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট। কীভাবে করছেন এই কাজটি? এ বিষয়ে প্রযুক্তিটির উদ্ভাবক সিউল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বুধবার জানিয়েছে, ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে তারা যে এআই সিস্টেম তৈরি করছেন তা ক্যামেরা, সেন্সর এবং উদ্ধার পরিষেবার রেকর্ড থেকে তথ্য যাচাইবাছাই করে মানুষের আচরণ বিশ্লেষণ করা শিখছে। এই উদ্ভাবক দলের প্রধান গবেষক কিম জুন-চুল বলেন, কয়েক ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য এবং ব্যক্তির আচরণে দ্বিধার আভাসের মতো বিষয়গুলো মূল্যায়নের ভিত্তিতে এআই তখন একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির অনুমান করতে পারে এবং দ্রুত উদ্ধারকারী দলকে সতর্ক করতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। গবেষক দলের প্রধান আরো জানিয়েছেন সিস্টেম নিজেই ফুটেজটি শিখেছে। এর ফলে ভুল অ্যালার্মের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনে উন্নত ফলাফল দিতে পারে। ইয়োইডো ওয়াটার রেসকিউ ব্রিগেডের দায়িত্বে থাকা কিম হাইয়ং-গিল সিওলের হান নদীর ওপরের সেতু থেকে রিয়েল টাইম ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করার সময় রয়টার্সকে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, নতুন সিসিটিভি আমাদের ক্রুদের কেসগুলি কিছুটা দ্রুত শনাক্ত করতে এবং আরও দ্রুত সাড়া দিতে সহায়তা করবে।” প্রযুক্তিটি নিয়ে কিমের দল গবেষকদের সঙ্গে কাজ করছে। একটি পাইলট প্রকল্পের আকারে সিওল ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার হেডকোয়ার্টার অক্টোবর থেকে প্রযুক্তিটি পরিচালনা করবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রীষ্মের পোশাকপরা তরুণীটি কি কেবল সেতুর বাইরের দৃশ্যের প্রশংসা করছেন; নাকি  ব্যক্তির মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কাজ করছে তা অনুমান করে নেয়া হবে পরবর্র্তী পদক্ষেপ।